পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ১০৪৪ ভরি স্বর্ণ

প্রকাশ:

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে দীর্ঘ ছয় বছর ধরে জমা হওয়া স্বর্ণ ও রৌপ্যালঙ্কারের পরিমাপ কার্যক্রম শেষ হয়েছে। গত সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে এই মূল্যবান সামগ্রীর ওজনের হিসাব প্রকাশ করা হয়। দীর্ঘ বিরতির পর পরিচালিত এই গণনায় মোট ১ হাজার ৪৪ ভরি স্বর্ণ এবং ১ হাজার ৮৮ ভরি রুপার অলঙ্কার পাওয়া গেছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ৫টার দিকে অলঙ্কারের ওজন নির্ধারণের বিষয়টি জানানো হয়।

সোমবার সকাল পৌনে ১০টা থেকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এই আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ট্রেজারিতে সংরক্ষিত নয়টি মাঝারি আকারের প্লাস্টিকের কনটেইনার এবং ছয়টি সিলগালা করা খাম খুলে স্বর্ণের ক্যারেট যাচাই ও ওজন নির্ধারণের কাজ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি জেলা জুয়েলারি সমিতির ১০ জন সদস্য কারিগরি সহায়তা প্রদান করেন। ১৩ মাসে কোরআনের হাফেজ ১০ বছরের নাঈম।

জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে নয় সদস্যের একটি উপকমিটির তত্ত্বাবধানে পুরো কার্যক্রমটি সম্পন্ন করা হয়েছে। কমিটির কাজে জেলা প্রশাসনের তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, আনসার এবং ব্যাংক কর্মকর্তারা নিয়ামোতভাবে দায়িত্ব পালন করেন।

রূপালী ব্যাংকের এজিএম মোহাম্মদ আলী হারিছী জানিয়েছেন, দানবাক্স থেকে প্রাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা গণনার কাজ চলমান রয়েছে। সোমবার রাত ৮টা নাগাদ এই গণনা শেষ হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। স্বর্ণ ও রুপার বাজারমূল্য যাচাই করে পরবর্তীতে তা নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে এবং প্রাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশ ব্যাংকের বিনিময় হার অনুযায়ী নগদায়ন করা হবে। সম্পত্তির ভাগ না পেয়ে বাবার জানাজা আটকে দিলেন মেয়ে।

কার্যক্রম পরিচালনাকালে জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক জেবুন নাহার শাম্মী, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলীসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ২০২০ সালের মার্চ মাসে দানসিন্দুক থেকে প্রাপ্ত ৪২০ ভরি স্বর্ণ ও ১৮৮ ভরি রুপা নিলামে ১ কোটি ১৫ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল। এর আগে ২০২০ সালের ১১ মার্চ পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকে জমা পড়া ৪২০ ভরি স্বর্ণ ও ১৮৮ ভরি রুপার অলঙ্কার নিলামে ১ কোটি ১৫ লাখ ৪ হাজার ১১০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল। সীমান্তে বিজিবির ওপর ‘হামলা’, গুলিতে ‘চোরাকারবারি’ নিহত। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ‘গাঁজাখোর’ বললেন রাশেদ খাঁন।

উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের ২৭ জুন মসজিদের দানবাক্স খুলে রেকর্ড ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার টাকা পাওয়া গিয়েছিল। এরপর থেকেই দানবাক্সে জমাকৃত মূল্যবান ধাতু ও বৈদেশিক মুদ্রা পরিমাপের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। মসজিদের নিজস্ব ওয়েবসাইট চালুর পর থেকে অনলাইনে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমেও এ পর্যন্ত ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ১০৬ টাকা অনুদান পাওয়া গেছে। সে সময় প্রাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রি করে আরও ৭০ লাখ টাকা পাওয়া যায়। ফেসবুকে ১৭ দিনের পরিচয়ে কক্সবাজার যায় তাজমিন, ফেরার পথে ধর্ষণ-হত্যার শিকার।

ঐতিহাসিক এই মসজিদের দানবাক্সে নিয়মিত বিরতিতে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি মুদ্রা এবং স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কার দিয়ে থাকেন। একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর এসব সম্পদ সরকারি তত্ত্বাবধানে গণনা ও মসজিদের তহবিলে জমা করা হয়।

শেয়ার করুন